'রুকইয়াহ' (الرقية) একটি আরবি শব্দ, যার সাধারণ অর্থ হলো ঝাড়ফুঁক বা পবিত্র কালাম পড়ে দম করা। ইসলামী শরিয়তে রুকইয়াহ হলো এমন এক আধ্যাত্মিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিহ হাদিসে বর্ণিত মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
রুকইয়াহ শরিয়্যাহর মূল ৩টি আবশ্যকীয় শর্ত
ইসলামের প্রখ্যাত ফকীহ ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, কোনো রুকইয়াহ বৈধ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক:
আল্লাহর কালাম বা নামের মাধ্যমে হতে হবে: তা কেবলমাত্র মহান আল্লাহর পবিত্র কুরআন অথবা তাঁর পবিত্র গুণবাচক নামসমূহের মাধ্যমে হতে হবে।
স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষা: তা স্পষ্ট আরবি ভাষায় বা বোধগম্য অর্থে হতে হবে, যার মধ্যে কোনো দুর্বোধ্য তন্ত্র-মন্ত্র বা শিরকি প্রতীক থাকবে না।
তাওয়াক্কুল একমাত্র আল্লাহর ওপর: এই সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে রুকইয়াহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফল দিতে পারে না, বরং একমাত্র মহান আল্লাহর রহমত ও ইচ্ছাতেই নিরাময় লাভ হয়।
বদনজর ও জিন-যাদু থেকে সুরক্ষায় সুন্নতি পদ্ধতি
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যখনই কোনো ব্যক্তি বদনজর বা জিন-যাদুর প্রভাবে কষ্ট পায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আমল কেবল আত্মিক প্রশান্তিই এনে দেয় না, বরং শয়তানি অনিষ্ট থেকে একটি মজবুত ঢাল হিসেবে কাজ করে।
পাশাপাশি পানিতে বা খাঁটি অলিভ অয়েলে (তেলেসমাতি তেল) সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও মোয়াওওয়াজাতাইন পাঠ করে দম করে পান করা ও মালিশ করাও বিশুদ্ধ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
মন্তব্য ও দ্বীনি আলোচনা ৩টি মন্তব্য
আপনার মন্তব্য বা জিজ্ঞাসা লিখুন
মাশাআল্লাহ, অত্যন্ত চমৎকার ও প্রামাণ্য আলোচনা। আল্লাহ মাওলানা সাহেবকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার তৌফিক দিন।
রুকইয়াহ করার শরয়ী নিয়ম ও শর্তগুলো খুব সুন্দর ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। অনেক বিভ্রান্তি দূর হলো। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
পরিবারের সুরক্ষায় সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পোস্টটি সবার মাঝে শেয়ার করার মতো তথ্যবহুল।